মতিন একজন কৃষক। তার বড় মেয়ে জলি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। মতিন কবিরাজের কাছ থেকে পানিপড়া এনে খাওয়ান এবং তাবিজ দরজায় ঝুলিয়ে রাখেন। বাড়ির সবাইকে সাবধান করে বলেন খোঁড়া কোনো প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ধারণা ডেঙ্গুজ্বর খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে বাড়িতে আসে। কিন্তু মতিনের অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছোট ছেলে জনি বাবার ধারণা ভুল প্রমাণ করতে তার বিজ্ঞান বইয়ে ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশার উদাহরণ দেয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি জনি পরাশর ডাক্তারের প্রতিনিধি।
কুসংস্কার মানুষকে বিপথে পরিচালিত করে। মানবজীবনে নানা রকম বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করে। মানুষকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। বিজ্ঞানের জ্ঞানহীনতাই কুসংস্কারে বিশ্বাসের প্রধান কারণ।
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। নগেন ভূতে বিশ্বাস করে কাহিল হয়ে পড়লে পরাশর ডাক্তারের কাছে যায়। পরাশর ডাক্তার তার সব কথা শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি দিয়ে বিচার করে নগেনের ভূতে বিশ্বাসকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের জনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে তার বাবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। সে তার বাবাকে বলে ডেঙ্গুজ্বরের জন্য খোঁড়া প্রাণী নয়, এডিস মশা এই জ্বরের বাহক।
উদ্দীপকের জনি আলোচ্য গল্পের পরাশর ডাক্তারের মতো যুক্তিতে বিশ্বাসী মানুষ। তার কাছে ঝাড়-ফুঁক, কবিরাজি, তাবিজ-কবজ ইত্যাদি বিষয় সেকেলে। সে বিজ্ঞান ও আধুনিক চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনি বিজ্ঞানমনস্কতার দিক থেকে গল্পের পরাশর ডাক্তারের যোগ্য প্রতিনিধি।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?